ক্লাউন মাছ

এই মাছটি ছিল Perciformes বর্গের Pomacentridae গোত্রের এক প্রকার মাছ যার ইংরেজি নাম হল Orange clownfish ও বৈজ্ঞানিক নাম Amphiprion percula. কমলা রঙের শরীরের উপর সাদা সাদা ডোরার অত্যন্ত সুন্দর এই মাছটি প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগরে দ্বীপের কাছাকাছি কোরাল এলাকায় বসবাস করে।
অবাক হবার ব্যাপার হল সকল clownfish জন্মের সময় পুরুষ হয়ে জন্মায় এবং তারা তাদের সেক্স পরিবর্তন করতে পারে স্ত্রী হতে পারে। এরা দলবদ্ধ হয়ে বাস করে এবং দলের নেতৃত্বে থাকে একজন স্ত্রী মাছ। এই স্ত্রী মারা গেলে অন্য একটি প্রজননক্ষম পুরুষ তার সেক্স পরিবর্তন করে স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয়ে যায় ও ডিম পেরে বংশ টিকিয়ে রাখে।

বাওক বাইম

এক আজব মাছ! রাতে নদীর জল ছেড়ে ঢালু পাড় বেয়ে উঠে পড়ে ডাঙায়, কুচকুচ করে খায় খেতের ক্ষীরা ও শসা। খাওয়ার সময় চাপা শব্দ তোলে গলায়, বিপদ বুঝলে গোখরো সাপের মতো ঘাড় ফুলিয়ে আর লেজ দুলিয়ে গলায় তোলে ভয়ংকর আওয়াজ; তীরবেগে নেমে পড়ে আবার জলে। এই মাছটির স্বভাব-চরিত্র নরসিংদীর চরসিন্দুর ইউনিয়নের শীতলক্ষ্যা নদীর পারের মানুষজন ও জেলেরা জানে। জানে বলেই রাতের বেলায় ডাঙা থেকে কেউ কেউ কৌশলে শিকার করে ওদের। এ খবর বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ক্লাবের চরসিন্দুর শাখার কর্মকর্তা সরওয়ার পাঠানের মুখে শুনি ২০০৪ সালে। সে-ও চেনে মাছটিকে, দেখেছে। জানে স্বভাব-চরিত্রের কথাও। শিহরিত হই আমি। এ তো এক আজব, অলৌকিক মাছ! উত্তেজনায় ভুগতে থাকি। সরওয়ারকে একটি মাছ সংগ্রহ করতে বলি। ২০০৪ সালের ১ ডিসেম্বর একটি মাছ কবজা করে সরওয়ার। মাছটি দেখে প্রথমেই মনে হলো, ওটি কুঁচে। কিন্তু রং-গড়ন-ধরন লক্ষ করে সন্দেহ গভীর হলো। চরসিন্দুরে ওটি ‘বাহক মাছ’ বা ‘বাওক মাছ’ নামে পরিচিত। আবার কেউ কেউ ‘তেলি বাহক’, ‘তেলপোমা’ নামেও ডাকে। কারণ, একেবারে তেলতেলে শরীর। দৈর্ঘ্য ৩৭ সেন্টিমিটার, ঘাড়ের বেড় প্রায় সাত সেন্টিমিটার। মাথার বেড় আরেকটু বেশি। রেগে ঘাড় ফোলালে ঘাড় ও গলার বেড় বেড়ে যায় কিছুটা। কুচকুচে কালো চোখটা হয়ে যায় ঘোলাটে লালচে। চ্যাপটা ধরনের লেজ, শরীর গোলাকার। শুধু ঘাড় আর মাথা দেখলে কেউটে সাপ বা তেলোটাকির মাথার মতো লাগে। মুখে আছে ছোট ছোট তীক্ষ ধার দাঁত। শরীরের রং হলুদাভ থেকে জলপাই-বাদামি। তার ওপরে ছড়ানো-ছিটানো গাঢ় বাদামি ছিট ছোপ। কম বয়সী মাছের শরীর থাকে দাগহীন। এই মাছের আরো কিছু আঞ্চলিক নাম আছে। যেমন-বামোস, বামুস, বামাস, বামসে, বাউস, বাওস, বানেহারা, বানহরি, বাও বাইম, বাউ বাইম, তেল কোমা, তেল কুমড়া, বাও মাছ, বাউ মাছ। আইইউসিএন এর তথ্য মতে এটি বাংলাদেশের একটি মহাবিপন্ন মাছ। সুনামগঞ্জে ভারত থেকে আগত বিভিন্ন পাহাড়ি নদীতে মাঝে মাঝে এটি পাওয়া যায়।

সরওয়ার, তানভীর ও আমি অনেক চেষ্টা করে মাছটির পরিচয় শনাক্ত করলাম ‘বাওক বাইম’ বলে। তবু সন্দেহ রইল। ছবি পাঠালাম প্রাণিবিদ মনিরুল খানের কাছে। তিনি নিশ্চিত করলেন। মাছটির ইংরেজি নাম Indian Longfin Eel। বৈজ্ঞানিক নাম Anguilla bengalensis। মাছটির আবাসস্থল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ পাহাড়ি সোঁতা, কাপ্তাই লেক, নদী-পুকুর ও বঙ্গোপসাগরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কংস ও সোমেশ্বরী নদী। কংস নদে ধরা পড়া একটি মাছের মাপ ছিল ১১৮০ মিলিমিটার, ওজন ছিল ছয় কেজির বেশি। চরসিন্দুরের দন্তচিকিৎসক ও নেশাদার মাছশিকারি রতন আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি বহুবার বাওক মাছ ধরেছেন, শীতলক্ষ্যায় অনেক আছে। ১৯৮৮ সালে বান্ধব কটন মিলের কেয়ারটেকার তাঁর চিতল মাছ ধরার বঁড়শিতে একটি ১০ কেজি ওজনের বাওক মাছ পেয়েছিলেন। লম্বায় সেটি ছিল সাড়ে চার ফুট। খোঁজখবর নিয়ে আমরা জেনেছি, বাওক মাছ ডাঙায় সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। শরীরে বিপুল শক্তি ধরে ওরা। ২০০৪ সালের মে মাসে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নদীর পার্শ্ববর্তী দুটি সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও উত্তপ্ত পানি শীতলক্ষ্যায় পড়ায় বহু জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠেছিল। ওই দলে ছিল কয়েকটি বাওক বাইমও। সবচেয়ে বড়টির ওজন ছিল পাঁচ কেজি; লম্বায় ছিল চার ফুট তিন ইঞ্চি। ওই সময় জাতীয় দৈনিকগুলোতে সেটির সচিত্র সংবাদ ছাপা হয়েছিল।
আশ্চর্য মাছই বটে বাওক বাইম! এরা বাস করে মিঠাপানিতে, ডিম ছাড়ার সময় সাগরে যায়। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চাগুলো চলে আসে মিঠাপানিতে। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সে সাগরে গিয়ে আর নাকি ফেরে না। গভীর সমুদ্রে জন্ম। লার্ভা ও শূককীট কয়েক সপ্তাহ সমুদ্রের জলে ভাসার পর তীরভূমির কাছাকাছি আসে। ক্রমে খুদে স্বচ্ছ বান (গ্লাস ইল) থেকে ছোট বাইমে রূপান্তরিত হয়ে নদীতে প্রবেশ করে।
বাওক বাইম শীতলক্ষ্যায় আজও আছে। মাছটি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তাতে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

শরীফ খান | প্রথম আলো
Labels: বাইম

গ্রেট হোয়াইট শার্ক

চারশ' প্রজাতির হাঙ্গরের মধ্যে মাত্র নয় প্রজাতির হাঙ্গরের মানুষ মারার রেকর্ড আছে। আর এই নয় প্রজাতির মধ্যে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রেট হোয়াইট শার্ক।

গ্রেট হোয়াইট শার্কেরা দাঁতের ব্যাপারে প্রচণ্ড সম্পদশালী। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সারা জীবনে অন্তত হাজার খানেক দাঁত হারায় তারা। তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় ওগুলোর বদলে নতুন দাঁতও পেয়ে যায় তারা। কিভাবে? এদের উপরের চোয়ালের সামনের সারিতে থাকে ২৬টি দাঁত। আর নিচে সামনের সারির দাঁতের সংখ্যা ২৪। ক্ষুরের মতো ধারালো দাঁতের সারির পিছনে থাকে আরও অনেক প্রতিস্থাপনযোগ্য দাঁতের সারি। যখনই হাঙ্গরটা কোনো একটা দাঁত হারায়, পিছনের সারি থেকে বদলি দাঁত সামনে চলে আসে।

রকমারি ডেস্ক

ওগোপোগো

চলচ্চিত্রের খোঁজখবর যারা রাখেন তাদের কাছে ওগোপোগো নামটা অপরিচিত নয়। তবে অন্যদের কাছে মনে হতেই পারে_ ওগোপোগো! এ আবার কেমন নাম? এটি রহস্যময় এক জলদানবের নাম। এই জলদানবের বাস্তবিক ভিত্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া না গেলেও এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। অনেকেই বিশালাকারের এই জলজ প্রাণীটিকে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। আর সেখান থেকে নির্মিত হয়েছে একাধিক চলচ্চিত্রও। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিটি হলো_ 'মি শী: দ্য ওয়াটার জায়ান্ট'। সত্যিকার অর্থেই কি এমন কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে? থাকলে তা দেখতে কেমন? একে ঘিরে এত আকর্ষণের কারণইবা কী?



কিম্ভূতদর্শন এক জলজ প্রাণী ওগোপোগো। ইতিহাসে প্রথম এই প্রাণীটির প্রসঙ্গ আসে ১৮৬০ সালে। ওই সময় কিছু ইউরোপিয়ান উপনিবেশবাসী প্রথমবারের মতো এই দানব প্রাণীর দর্শন লাভ করে। প্রথম প্রথম অনেকেই একে বিভ্রম আর অবচেতন মনের কল্পনা বলে চালিয়ে দেয়। কিন্তু ক্রমে অনেকেই দেখতে লাগলেন ওগোপোগো। ১৯২৬ সালের দিকে অনেকেই দেখেন একে। এ ঘটনা ঘটে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকানাগান মিশন বিচে। সেখানে প্রায় ৩০টি গাড়িভর্তি মানুষ ওগোপোগোর ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বলে জানা যায়। তখন 'ভ্যানকুভার সান'-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা আসলে প্রকৃত ঘটনা না বুঝে এরকম ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। ফলে 'ওগোপোগো' আসলেই আছে- নাকি এটা দেখার ভুল এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে ওকানাগানের উপজাতিরা একে খুব মেনে চলেন। যে হ্রদে ওই অদ্ভুত প্রাণী দেখা গিয়েছিল, তার আশপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা সতর্কতা অবলম্বন করেন। ব্রিটিশ প্রাণীবিজ্ঞানী কার্ল শাবার আবার ওগোপোগোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেণীবিন্যস্ত করার প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি আদিম সর্পলিকার তিমির কোনো প্রকরণ হতে পারে। আবার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ভোঁদড় বা উদ-বেড়ালগোছের কিছুও হতে পারে। এদিকে স্থানীয় লোককাহিনীতেও এ প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে একে 'হ্রদের পানিতে বৃহৎ পশু' হিসেবে বর্ণনা রয়েছে। এ কাহিনীও অবশ্য গড়ে উঠেছে ইতিহাসের অনির্দিষ্ট কোনো এক সময়ে আদিবাসীরা এ রকম এক জীব দেখেছিল এ তথ্যের ভিত্তিতে।
কিন্তু ওগোপোগোটা আসলে কী? এক কথায় বলতে গেলে এ হলো হ্রদের দৈত্য। বিভিন্ন সময়ে যাকে মানুষ দেখেছে। তবে এ সম্পর্কে তাদের বর্ণনা একরকম নয়; বরং ভিন্ন ভিন্ন অদ্ভুত প্রাণীর আকৃতি নির্দেশ করে। ওগোপোগো দেখতে কী রকম, এ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। এর মধ্যেই কানাডার চিত্রপরিচালক কেন চ্যাপলিন একদিন সাপের মতো দেখতে একটি বিশাল প্রাণীকে হ্রদে সাঁতার কাটতে দেখেন। প্রাণীটি তখন লেজ ঝাঁপটে পানিতে দাঁপিয়ে বেড়াত। এ সময় কেন চ্যাপলিনের বাবা ক্লেম চ্যাপলিনও সঙ্গে ছিলেন। ওরকম অদ্ভুত প্রাণী তারা আগে কখনো দেখেননি। চ্যাপলিন এটিকে 'ওগোপোগো' হিসেবে শনাক্ত করেন। এ নিয়ে ১৯৮৯ সালে তিনি নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র। অনেকে অবশ্য দাবি করেন, চ্যাপলিন পানিতে আসলে 'বিভার' নামের একটি উভচর প্রাণী দেখেছিলেন। কারণ তার বর্ণনার সঙ্গে বিভারের বৈশিষ্ট্যই বেশি মেলে। তবে একটি সমস্যা হলো, বিভার যখন লেজ ঝাপটায় তখন তার মাথা থাকে পানিতে নিমজ্জিত অথবা পানির সমান্তরালে ভাসমান। আর চ্যাপলিনের মতে, তার দেখা প্রাণীটি ১৫ ফুটের মতো লম্বা। অথচ বিভার সাধারণত ৪ ফুট লম্বা। এ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরই চ্যাপলিন তার বাবা ও কন্যাসহ দ্বিতীয়বার এ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। যদিও এর আগে ১৯৬৮ সালে প্রথম ওগোপোগো নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেন অটি ফোল্ডেন।
১৯৯০ সালে এক চিত্রশিল্পী তার ধারণা থেকে একে চিত্রায়িত করেন, যা কানাডার ডাকটিকিটে ব্যবহার হয়। 'ফাইনাল ফ্যান্টাসি-৪' নামক একটি ভিডিও গেমে একে অ্যানিমেটেড করা হয়। ১৯৯৬ সালে মাইক্রোসফট পাবলিশার ওগোপোগোকে বেছে নেয় বিশেষায়িত প্রতীক ও কোড নেম হিসেবে। এদিকে কানাডার আদিম অধিবাসীরা জলের দেখা এ দৈত্যের নাম দিয়েছিলেন 'নিয়াটেকা'। ১৯২৬ সালে ওই এলাকার আধুনিক অধিবাসীরা এর নাম দেন ওগোপাগো। আর এ নামটি নেওয়া হয় ১৯২০ সালের একটি হাস্যরসাত্মক গান (আই অ্যাম লুকিং ফর দ্য ওগোপোগো...) থেকে। কানাডায় অবশ্য এক ধরনের নৌকার নামও ওগোপোগো। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডে ওগোপোগোকে নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। আদিবাসীরা তখন 'ওগোপোগো' নামটি ব্যবহারে বাধা দেয়। তবে তাদেরই কিছু অংশ ওই নাম দিয়ে সিনেমা বানাতে উৎসাহী করেন পরিচালককে। শেষ পর্যন্ত সিনেমার নাম বদলে রাখা হয়, Mee-Shee : The water giant। এখানে অদ্ভুত দর্শন জীবটির নাম দেওয়া হয় 'মি-শি'।

রণক ইকরাম

আর্চার ফিশ





আর্চার ফিশ বা তীরন্দাজ মাছ পানির ওপর দাঁড়ানো জলজ উদ্ভিদে ঝিম্ মেরে বসে থাকা পোকামাকড় শিকার করে খায়। এর খাদ্য সংগ্রহের কৌশলটা বেশ চমকপ্রদ। ক্রিম-গোল্ড কালারের শরীর নিয়ে এরা চুপিসারে বসে থাকে শিকারকে ঘায়েল করা লক্ষ্যে। কিভাবে ঘায়েল করে শিকারকে? হ্যাঁ, পানির ওপর ঝুলে থাকা গাছ- গাছড়া কিংবা লতা-পাতায় বসে থাকা কীট-পতঙ্গকে ছুড়ে মারে তীর, পানির তীর! এদের লক্ষ্য প্রায় অভ্রষ্ট। প্রায় চার ফুট দূর থেকেও এরা পানি ছুড়ে শিকারকে নিচে পানিতে ফেলে দেয়। হতভম্ব শিকার পানিতে নড়াচড়ার আগে তার লীলা সাঙ্গ হয় 'তীরন্দাজের পেটে'। ১২০ সে. মি. দূর থেকেও পানির তীর ছুড়তে পারে তীরন্দাজ মাছ। তীরন্দাজ মাছের মুখের উপরিভাগ লম্বা খাঁজ কাটা। মাছটি যখন শ্বাস-প্রশ্বাস থামিয়ে দেয় তখন পানি শ্বাস-প্রশ্বাসের ঘর হাতে মুখের মধ্যে চলে আসে। সঙ্গে সঙ্গে সে জিভটি তুলে দেয়। ফলে মুখের খাঁজকাটা অংশটি টিউবের কাজ করে এবং ফোঁটা ফোঁটা করে একই সারিতে পানি বেরিয়ে ছুটে যায় শিকারের লক্ষ্যে। স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানিতে বাস করে তীরন্দাজ মাছ। এদের দৈর্ঘ্য ১৮ সে. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তানিয়া আক্তার

ইলিশ

ইলিশ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। এর আরেকটি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক নাম Hilsa ilisha। এটি ইলিশ নামে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ওড়িষ্যা ও পাঞ্জবে সুপরিচিত হলেও তেলেগু ও কান্নাড়া ভাষায় পালাস, মারাঠি ভাষায় ও পাকিস্তানের সিন্ধি ভাষায় এর নাম পাল্লা এবং বার্মিজরা একে বলে নগা-থালাঙ্ক। এছাড়াও এর বিভিন্ন নাম রয়েছে।

ইলিশ মাছ সাধারণত সমুদ্রের উপকুলীয় জলে থাকে। এবার এর বিচরণ ক্ষেত্রটি দেখে নিইঃ
ইলিশের আরেকটি যাত ভাই রয়েছে যাকে দেখে এক ঝলকেই ইলিশ থেকে আলাদা করা সম্ভব না। এর বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli যা আমাদের দেশে কাজী ইলিশ বা চন্দন ইলিশ নামে পরিচিত। এর সাথে ইলিশের স্বভাব ও আকারে কোন পার্থক্য না থাকলেও এরা ইলিশের চাইতে কিছু বড় আকারে খাবার খায়। এদের বিচররণক্ষেত্রটিও দেখে নিই।
ইলিশের দুই ভাইয়েরই বিচরণক্ষেত্র আমাদের সাগর উপকূল। এরা সাগর জলে থাকলেও নদীতে আসে ডিম ছাড়তে। এরা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে কাটতে ডিম ছাড়ে। এর ডিক মানে কিন্তু একটা ডিম না। একসাথে থাকে প্রায় ১০-১৫ লক্ষ ডিম।

এদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি এবং সর্বোচ্চ ২ বছর বাঁচে। সর্বোচ্চ ভর প্রায় ২৫০০ গ্রাম। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭১ কিমি বেগে সাঁতার কাটতে পারে। এবং ডিম পাড়ার জন্য ১২০০ কিমি সাঁতার কাটতেও রাজি। ইলিশ মাছ একসঙ্গে ১৫ লাখ ডিম পাড়ে।

রূপালি বর্ণের ইলিশ ও কাজী ইলিশ এর পার্থক্য না বললেই চলে এবং জীবন-চক্রের কিছু পর্যায়ে পার্থক্য থাকেই না। এবার কিছু ছবি দেখে নিই।



লেখার স্বত্তঃ দেবা
ইলেশের ছবির স্বত্ত্বঃ রেজওয়ান
Labels: ইলিশ

স্টার ফিশ

স্টার ফিশের কোনো মস্তিস্ক নেই, ওরা একধরনের স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমেই যাবতীয় কাজ করে থাকে। আরো মজার বিষয় হচ্ছে স্টার ফিশ আসলে মাছ নয়। পানির নিচে থাকে বলেই তাদেরকে আদর করে স্টার ফিস বলে ডাকা হয়।

Advertisement