Showing posts with label তিমি. Show all posts
Showing posts with label তিমি. Show all posts

অরকা

সমুদ্রের সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি। আকারে এরা এতটাই বড় যে, এদের দানব বললেও ভুল হবে না। সমুদ্রের এই নীল দানবদের অনেক প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রজাতি হলো_ কিলার হোয়েল। কিলার হোয়েল বা খুনি তিমি মূলত 'অরকা' নামেই বেশি পরিচিত। এটি মহাসাগরীয় ডলফিন পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য এবং অন্যতম শিকারি প্রাণী। সব মহাসাগরেই কম-বেশি এদের দেখা মেলে। এমনকি আর্কটিক এবং এন্টার্কটিকার বরফ ঢাকা অঞ্চলেও এদের দেখা যায়। অরকারা যদিও মানুষের বন্ধু হিসেবেই বেশি পরিচিত তবে নিঃসন্দেহে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী শিকারি প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি। কিলার হোয়েলরা খুবই বুদ্ধিমান এবং সামাজিক প্রাণী। এরা সামাজিক দল তৈরি করে বসবাস করে এবং সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এরা বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে যা অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীদের চেয়ে উন্নত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের দ্বারা বিভিন্ন কাজ করানো যায়। তিন ধরনের কিলার হোয়েল রয়েছে। একেকটি একেক ধরনের খাবার পছন্দ করে। এরা মূলত অন্য প্রজাতির ম্যামালস। যেমন_ সীল, সি লায়ন, এলিফ্যান্ট সীল ইত্যাদি খায়। মাছের মধ্যে হেরিং, শ্যামন, টুনাসহ এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ। এছাড়াও এরা স্কুইড এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক পাখিও খেয়ে থাকে। অনেক সময় কয়েকটি কিলার হোয়েল একত্রে বড় আকৃতির তিমিকেও আক্রমণ করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরা শিকারকে খাওয়ার আগে পুরোপুরি দুর্বল করে নেয়। এর জন্য অনেক সময় শিকারকে এরা বাতাসে ছুঁড়ে মারে অথবা লেজ দিয়ে বাড়ি মারে। তিমি এবং ডলফিন দুই প্রজাতির বৈশিষ্ট্যযুক্ত কিলার হোয়েল উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। আকৃতিতে এরা ২০ থেকে ৩২ ফিট হয়। ওজন সর্বোচ্চ ৬ টন। এর পিঠের দিকটি কালো এবং বুকের ও পাশের কিছু অংশ সাদা। দুই সারিতে থাকা ৪৮টি দাঁত সর্বোচ্চ চার ইঞ্চি লম্বা হয়। বিশাল আকৃতি, শারীরিক গঠন এবং শক্তিশালী দেহের কারণে এরাই সমুদ্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা একদিনে সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে পারে। অরকারা সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ বছর বাঁচে। মা অরকা ৩ থেকে ৫ বছরে একটি বাচ্চা প্রসব করে।

আরমান খান
Labels: তিমি

তিমি

তিমি সিটাসিয়া বর্গভুক্ত জলজ স্তন্যপায়ী। তিমিকে প্রায়ই তিমি মাছ বলা হয়, এরা কিন্তু মোটেও মাছ নয়, বরং মানুষের মতই স্তন্যপায়ী। তিমির বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি, খুনে তিমি (killer whale), এবং পাইলট তিমি, যার নামের সাথে তিমি আছে বটে কিন্তু জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়োজনে তাদের ডলফিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

* বাচ্চা তিমি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ পাউন্ড করে বাড়ে।
* কিলার হোয়েলের প্রতি মিনিটে হূত্স্পন্দনের হার পানির নিচে ৩০ বার আর পানির ওপর ৬০ বার।
তিমি বা ডলফিন মানেই আমাদের কাছে বিদেশি ‘জন্তু’। টেলিভিশন চ্যানেলেই শুধু তাদের দেখা মেলে, দূর থেকে দেখে আনন্দ পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের এই দেশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানা জাতের ডলফিন। আমাদের সমুদ্রসীমাতেও সাঁতার কাটে তিমি। তাদের নিয়েই লিখেছেন খসরু চৌধুরী

নদী-খালগুলোয় হঠাত্ হঠাত্ চোখে পড়ে এদের। নৌকায় করে চলতে গিয়ে হঠাত্ দেখা যায়, ভুশ করে ভেসে ওঠে, আবার ডুবে যায় মেটে রঙের একটি প্রাণী। কাউকে জিজ্ঞেস করলে হেসে বলে—শুশুক।
অথচ এটি নিখাদ এক প্রজাতির ডলফিন! এটিই মিষ্টি পানির গাঙ্গেয় ডলফিন। আরও কয়েকটি প্রজাতির মতো আমাদের এক দুর্লভ সম্পদ।
পৃথিবীর খুব কম দেশের নদীতেই মিষ্টি পানির ডলফিন দেখা যায়। আমাজান নদীতে মিষ্টি পানির ডলফিন আছে। মিয়ানমারের ইরাবতী মোহনায় কিছু ডলফিন আছে। চীনের ইয়াংজি নদ এবং পাকিস্তানের সিন্ধু নদে মিষ্টি পানির কিছু ডলফিন আছে। আর ভারত, নেপাল, বাংলাদেশের নদীগুলোয় মিষ্টি পানির গাঙ্গেয় ডলফিন আছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিন্ধু নদের ডলফিন গাঙ্গেয় ডলফিনেরই একটি উপপ্রজাতি।
আমাদের দেশের খুব চেনা এই গাঙ্গেয় ডলফিনের (Platanista gangetica) গায়ের রং হয় কালচে বাদামি অথবা মেটে। আঁটসাঁট লম্বা শরীর, মাথা গোলাকার, ঠোঁট সুচালো, দুই পাশের পাখনা ও খাড়া লেজের পাখনা শক্তিশালী, পিঠের দিকটা সামান্য উঁচু ত্রিকোণাকৃতি, চোখ অত্যন্ত ছোট। শুশুক প্রায় অন্ধ প্রাণী। শুধু আলোর হ্রাস-বৃদ্ধিটা এরা একটু বুঝতে পারে। এরা বাদুড়ের মতো ‘ইকো-লোকেশন’-এর মাধ্যমে শিকারের অবস্থান বুঝে নেয়। প্রধানত মাছ, কাঁকড়া খেয়ে জীবন ধারণ করে।
শুশুক অবশ্য মোহনার লবণজলের নদীতেও দেখা যায়। তবে এরা সাগরে যায় না।
বঙ্গোপসাগর মোহনার নদী কর্ণফুলী, মেঘনা, ফেনী, বলেশ্বরসহ সুন্দরবনের লবণজলের নদী-খালে দেখতে পাওয়া যায় ইরাবতী ডলফিন (Orcaella brevirostris)। এরা শুশুকের চেয়ে গাঢ় বর্ণের। ঠোঁট নেই, মাথা ভোঁতা, দুই পাশের পাখা শক্তিশালী, পিঠের পাখাটি ছোট ত্রিকোণাকার। এরা শুশুকের মতো লাফঝাঁপ করে না, ধীরেসুস্থে ভেসে আবার ডুবে যায়। শুশুকের পাশাপাশিই শিকার ধরে, দলে দু-তিনটির বেশি দেখা যায় না। ইরাবতী নদীর মোহনার চেয়ে সুন্দরবনের খাঁড়িতে এদের বেশি দেখা যায়।
আকারে ছোট, কালচে রঙের আরেক ধরনের ডলফিন আমাদের সুন্দরবনের বড় নদীগুলোয় দেখা যায়। দেখতে অনেকটা ছোট আকারের ইরাবতী ডলফিনের মতো। নাম রিভার ফিনলেস পরপয়েজ (Neophocaena phocaenides)। এরা অত্যন্ত লাজুক। জাহাজ বা নৌকা থেকে অনেক দূরে ভেসে ওঠে।
সুন্দরবনের বড় নদীর খাঁড়িগুলোর জল শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা স্বচ্ছ হয়ে এলে গোলাপি ডলফিন (Souca chinensis) সাগর থেকে খাঁড়িতে ঢুকে পড়ে। এরা আকারে শুশুকের চেয়ে বেশ বড়। গায়ের রং হালকা বাদামির সঙ্গে গোলাপি আভাযুক্ত, তবে বাচ্চাদের রং কালচে। এরা অত্যন্ত তত্পর প্রাণী, চার-পাঁচটি মিলে দল গঠন করে। এরা প্রধানত মাছ খায়, তবে কাঁকড়া, স্কুইডও এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। এদের পিঠের পাখা বেশ বড়।
এবার আসি তিমির কথায়। আমাদের সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর মোহনার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে শুরু হয়েছে অতলস্পর্শ ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ এলাকা। ওই এলাকায় বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল ১০০ মিটার। কিন্তু পাশের অতলস্পর্শ ৫০০ মিটার গভীর, আরও দক্ষিণে ৮০০ মিটার গভীর। এ ধরনের অতলস্পর্শকে ‘সাবমেরিন হল’ বা সাবমেরিন ক্যানিয়ন বলা হয়। এখানে পলি জমতে পারে না। এই অতলস্পর্শ চলে গেছে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি। এই এলাকাগুলোতে প্রচুর প্লাঙ্কটন, জেলিফিশ, ছোট চিংড়িজাতীয় প্রাণী, স্কুইড ও ক্যাটল ফিশ বাস করে। এদের খেতে এই এলাকায় জড়ো হয় ডলফিন ও তিমি।
ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির মাধ্যমে এলিজাবেথ ফারনি মনসুর ও রুবাইয়াত মনসুর তাঁদের দলবল নিয়ে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন প্রজাতির সামুদ্রিক ডলফিন এবং এক প্রজাতির তিমি খুঁজে পেয়েছেন অতলস্পর্শ এলাকায়।
অতলস্পর্শে যে তিমি প্রজাতিটি নিয়মিত দেখা যায়, সেটি হচ্ছে ব্রিডিস হোয়েল (Balaenoptera edeni)। এটি মাঝারি আকারের তিমি।
ব্রিডিস বেলিন জাতের তিমি। এদের দেহের উপরি ভাগ বাদামি থেকে সাদাটে, নাকের ছিদ্র দুটি। এই ছিদ্র দিয়ে এরা ভেসে ওঠার পর ঝরনার মতো জল ছড়ায়। ২০-২৫ মিনিট পর পর ভেসে ওঠে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় আরেকটি তিমির উপস্থিতি সম্পর্কে গুঞ্জন আছে। কটকা অভয়ারণ্যের সমুদ্রসৈকতে একটি স্পার্ম তিমির (এই তিমির আকৃতি অনেকটা শুক্রাণুর মতো) মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল একবার। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন, এটি আমাদের এলাকার, নাকি দূর সমুদ্র থেকে ভেসে এসেছে।
অতলস্পর্শ এলাকায় দেখা মেলা তিন প্রজাতির ডলফিনের একটি হলো বটল-নোজ ডলফিন (Tursiops truncatus)। আকারে মোটামুটি বড়সড়, ঠোঁট লম্বাটে, অনেকটা বোতলের অগ্রভাগের মতো, চোখ স্পষ্ট, পিঠের পাখা বেশ বড়, দেহের বর্ণ উপরি ভাগ হালকা বাদামি, তলার দিকটা হালকা হলদেটে। এরা খুব আমুদে প্রাণী। ৩০-৪০টি প্রাণী মিলে মাছের ঝাঁকে আক্রমণ চালায়। অনেক লাফঝাঁপ করে, শূন্যে ডিগবাজি খায়।
বটল-নোজ ডলফিন ও স্পিনার ডলফিন (Stenella longirostris) জাহাজ বা জেলে-নৌকার কাছাকাছি থেকে সাঁতরাতে ভালোবাসে। একে বলে ‘বো রাইডিং’। পৃথিবীর যেসব অ্যাকুরিয়ামে ডলফিন শো হয়, সেখানে বটল-নোজ ও স্পিনার ডলফিনের ব্যাপক কদর।
আরেক প্রজাতির ডলফিন বঙ্গোপসাগরে দেখা যায়। এই প্রজাতির নাম স্পটেড ডলফিন। ঠোঁট লম্বাটে, পিঠের পাখার তলার দিকটা ছড়ানো, শীর্ষ দেশ সুচালো। এরাও দলেবলে শিকার করে।
দুনিয়ার মানুষের মন জয় করা এই তিমি-ডলফিনগুলো স্রেফ বিদেশি প্রাণী নয়; আমাদের সম্পদও বটে। তিমি-ডলফিনগুলোকে নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি এগুলো রক্ষার জন্যও কি আমরা কিছু করতে পারি না?
সূত্র: প্রথম আলো
শিকারি তিমি হলো প্রাণী জগতের বৃহত্তম প্রাণী তিমির একটি গোত্র। এটি একটি সামাজিক প্রাণী। ছোট ছোট গ্রুপে তারা বসবাস করে। তিমি মূলত মাতৃপ্রধান। শিশু তিমি জন্ম নেওয়ার পর ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সাঁতার কাটা শুরু করে। এ সময় মা তিমি তাদের ভেসে থাকতে ও শ্বাস নিতে সাহায্য করে। জন্মের এক বছর পর্যন্ত শিশু তিমি মা তিমির সঙ্গে একসঙ্গে থাকে। তিমি সাধারণত ১৩ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটে। তবে কিছু সময়ের জন্য এ গতি থাকে ঘণ্টায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

আকস্মিক ও এন্টার্টিক এলাকায় সবচেয়ে বেশি শিকারি তিমি পাওয়া যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-উপকূল, হুয়াই, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, মেক্সিকান উপসাগর এলাকায়ও এ তিমি দেখতে পাওয়া যায়।

গ্রন্থনা : সাজিয়া শারমিন কেয়া
Labels: তিমি

জিউগলোডন সেটোইডেস

মিশরকে পৃথিবী সবচেয়ে রহস্যময় দেশ বললে ভুল হবে না। দেশটির পরতে পরতে রহস্য এবং ইতিহাসের স্ফুলিঙ্গ। মিশরকে আমরা জানি মমি, পিরামিড, মন্দির, মরুভূমি এবং নীল নদের দেশ বলে। ‘প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাসের ধারক’ হিসেবে কী আমরা দেশটিকে জানি?


দেশটির আবহাওয়া এতটাই রুক্ষ এবং পাথুরে যে সেখানে প্রাণী বৈচিত্র্য নগণ্য। দেশটির তপ্ত-রুক্ষ পরিবেশে টিকে থাকাটা যে কোন প্রাণীর জন্যই কঠিন। কিন্তু শুনে অবাক হতে হয়, আজ থেকে প্রায় ৪ কোটি বছর আগে বর্তমানের এই মরুভূমির দেশেই জলজ প্রাণীর প্রচুরতা ছিল! তন্মধ্যে থেকে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সিংহভাগ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিছু প্রাণী বিবর্তিত হয়ে আজও টিকে আছে। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি জলজ প্রাণীর নাম জিউগলোডন সেটোইডেস।

উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় আমদানীকৃত এক প্রকার প্রাণীর বড় আকৃতির ফসিল দিয়ে ফার্নিচার তৈরি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফসিলগুলো নিয়ে জজ ব্রির মনে প্রশ্ন জাগে। তিনি ফসিলের মেরুদ-ের একটি টুকরো পাঠিয়ে দেন আমেরিকান ফিলোসফিক্যাল সোসাইটিতে। এনাটমিস্ট ড. রিচার্ড হারলেন ফসিল টুকরোটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘোষণা দিলেন যে এটি একটি সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণী, নাম রাখলেন বাসিলোসাওরাস সেটোইডেস , যার অর্থ বিশাল-সরীসৃপ। বলা যায় তখন থেকেই এই বিশেষ প্রাণীর পরিচয় নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শুরু। পরবর্তীতে ড. রিচার্ডই ফসিলের অন্যান্য অংশ সংগ্রহ করে পূনরায় গবেষণা চালান। গবেষণা শেষে তিনি তার মত পাল্টান। তিনি বলেন এটি এমন এক প্রজাতির তিমির ফসিল যা দেখতে লাঙলের ফলার মতো। এবার ফসিলের নাম দেন জিউগলোডন সেটোইডেস। কিন্তু ততদিনে আগের ভুল নামটিই জনপ্রিয় হয়ে গেছে।

আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা যে বিস্তৃত মরুভূমি দেখি, বিজ্ঞান বলে প্রায় ৪ কোটি বছর আগে এটি ছিল একটি সমুদ্র। যা শুকিয়ে বর্তমানে দিগন্তজোড়া ধূধূ মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে। এই মরুভূমির একটি বিশিষ্ট অংশ মিশরের উত্তরাঞ্চ। বিশেষ করে নীল নদের ব-দ্বীপ এবং এর আশেপাশের মরুভূমি। নীল নদের ব-দ্বীপ এবং এর আশেপাশের মরুভূমিকে বিজ্ঞানীরা এক সময়কার টেথিস সমুদ্রের অংশ বলে চিহ্নিত করেন।
ভৌগলিক কোন কারনে এই টেথিস সমুদ্র শুকাতে শুরু করে। ফলে অনেক বড় বড় জলজ প্রাণী ছোট ছোট গর্তে আটকা পড়ে এবং এক সময় মারা যায়। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জলজ প্রাণীর মধ্যে ছিল কিছু অদ্ভূত প্রজাতির বিশাল আকৃতির তিমি। ড. রিচার্ড হারলেন যার নাম দিয়েছিলেন জিউগলোডন সেটোইডেস।
তিমিগুলো সরু বাইনমাছ আকৃতির। গড়ে ২০ মিটার লম্বা (প্রায় ৬৬ ফুট)। এর ভয়ঙ্কর চোয়ালে ছিল করাতের মতো দাঁত। এই তিমির সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিশিষ্ট দিক হলো এর প্রসারিত শরীর। এখনকার সাধারণ তিমির মতো বেলুন আকৃতির ছিল না এই তিমির শরীর। এই তিমির শরীর ছিল অনেকাংশেই সাপের মতো। তাই ‘না তিমি না সাপ’ বলে এই আজব তিমিকে ব্যাখ্যা করা হয়। শরীরের গঠন সাপের মতো হলেও যেহেতু জলজ প্রাণী সেহেতু এর আছে সাঁতার কাটার জন্য লেজ ও ডানা। এই প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকৃতির তিমিকে বলা হয় ডরুডন। সর্বোচ্চ ৫ ফুট লম্বা।
তিমিগুলোর ফসিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মিশরের ওয়াদি আল-হিতানে। মিশরের আল-ফাইয়াম থেকে ওয়াদি আল হিতান যেতে গাড়িতে করে ২ ঘন্টা লাগে। ১৫ ধরনের বন্য স্তন্যপায়ী, ১৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩৬ প্রজাতির পাখি, এবং ১৫ প্রজাতির গাছের ফসিলসহ মোট ২শ ৪০টি ফসিল সেখানে সংরক্ষিত আছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় মরুভূমির আজব তিমি, জিউগলোডন সেটোইডেস। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো ওয়াদি আল-হিতানকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইউনেস্কোর মতে, আল হিতান এমন এক স্থান যা পৃথিবীর প্রাণীকূলের বিবর্তনের একটি ইতিহাস ধরে রেখেছে, বিশেষ করে তিমির বিবর্তনের ইতিহাস।
Labels: তিমি

Advertisement